অন্ধকার ঘরে শুয়ে আছে এক মৃতদেহ
জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া চাঁদের আলো
তার মুখে রেখে গেছে এক অদ্ভুত শান্তি
দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু বুঝতে পারছি না
কে বেশি নীরব-সে, না আমি।
ভাঙা ঘড়ির কাঁটার মতো স্থির
সময়ের কাছে পরাজিত কোনো সাক্ষী
বুকের ভেতর হাহাকার
যেন অচেনা শ্মশানে বাতাস হঠাৎ কেঁদে ওঠে।
এই মৃতদেহ, একদিন ছিল আগুনের মতো
ভালোবাসার ভেতর ঝড় তুলত
শহরের সব আলো নিজের নামে লিখে নিতো
আজ সে নিভে যাওয়া প্রদীপ
ধোঁয়ার মতো তার ইতিহাস
ধীরে ধীরে উড়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।
এই দেহ
একসময় হেঁটেছে, হেসেছে, ভালোবেসেছে
আজ শুধু পড়ে আছে
সময়ের এক নিঃশেষিত বাক্যের মতো।
আমি তার মুখের দিকে তাকাই
মনে হয়
কত না বলা প্রেম, কত অর্ধেক বিপ্লব
এই ঠোঁটের কোণে এসে শুকিয়ে গেছে
যেন রক্তমাখা পতাকা
ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হয়েছে কোনো ভাঙা আলমারিতে।
আমার ভেতরেও কি এমনই এক মৃতদেহ আছে!
যে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে
অবহেলায়, অনুতাপে, অপূর্ণতায়?
আমি কি শুধু হাঁটছি
নিজের কবর কাঁধে তুলে নিয়ে?
রাত আরও গভীর হয়
তারারাও যেন দূরের নির্বাসিত জনপদ
এই ঘরে শুধু আমি আর মৃতদেহ
দু’জনেই নীরব
দু’জনেই শেষ পর্যন্ত একই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে
কে আগে মরে গেছে
সে
না আমি?
