এই গ্রহ জানে না
কতবার ভেঙে গেছি ভিতরে ভিতরে
রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলোয় দাঁড়িয়ে
নিজেকেই চিনতে পারিনি বহুবার।
যে নাম একদিন ছিল প্রার্থনা
আজ তা নিঃশব্দে ঝরে পড়ে
ঠোঁটের কিনারে
ঠিক যেমন শুকনো পাতারা পড়ে
অপ্রস্তুত শরতের বিকেলে।
এখন আর কোনো প্রত্যাশা নেই
না ফিরে আসার, না ভুলে যাওয়ার
শুধু মাঝে মাঝে মনে হয়
এই দীর্ঘ যন্ত্রণা যদি হঠাৎ থেমে যেত
কোনো এক অচেনা ভোরে
তবে হয়তো আমি আবার শিখতাম
কীভাবে মানুষ হয়ে বাঁচতে হয়।
রাতগুলো খুব ব্যক্তিগত হয়ে গেছে
অন্ধকার এসে পাশে বসে
আমার পুরোনো স্মৃতিগুলো খুলে
ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করে
“এখনও বাঁচতে ইচ্ছে করে?”
আমি উত্তর দিই না
কারণ বেঁচে থাকাটা এখন আর সিদ্ধান্ত না
এটা কেবল অভ্যাস
যেমন অভ্যাস হয়ে গেছে
ভেতরে ভেতরে ধসে পড়া।
একদিন এইসব পথ ফুরোবে
ঘাসের ভিতর শুয়ে থাকবে ক্লান্ত শরীর
শালিকেরা ভুলে যাবে নাম
শুধু বাতাস জানবে
একজন মানুষ ছিল
যে নীরবে বহন করে গেছে
নিজের ভেতরের এক অদৃশ্য মৃত্যু।
