তোমাদের আমি ক্ষমা করিনি
যারা মানুষের মুখে তালা এঁটে
রাতকে বলেছো স্বাধীনতা
যারা ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নাকে
রাষ্ট্রদ্রোহ বলে দাগিয়েছো!
শুনে রাখো
একদিন এই মাটির নীরবতাও বিদ্রোহ শিখবে।
ধানক্ষেতে জমে থাকা বাতাস
আগুন হয়ে উঠবে
নদীর ঢেউ দাঁত কেলিয়ে ছিঁড়ে ফেলবে
তোমাদের সোনালি প্রাসাদের পতাকা।
আমি অভিশাপ দিচ্ছি
তোমাদের আয়নায় একদিন
নিজেদের মুখই চিনবে না তোমরা!
ক্ষমতার চর্বি জমে
মানুষের রক্তের গন্ধ বের হবে
তোমাদের প্রতিটি হাসি থেকে।
যে হাত শ্রমিকের মজুরি চুরি করে,
সে হাত একদিন ভিক্ষার পাত্র ধরবে।
যে চোখ অন্যায়ের দিকে তাকিয়েও নীরব থাকে,
সে চোখ অন্ধকারে পচে যাবে।
আর যে কণ্ঠ সত্যকে হত্যা করে,
তার জিহ্বায় জন্ম নেবে শেকল!
আমি কবি
আমার কলম কাঁপে না।
আমি দেখেছি
ক্ষুধার্ত মানুষের চোখে কেমন করে
বজ্র জমে ওঠে।
সেদিন যখন রাস্তায় নামবে
অপমানিত মানুষেরা
তোমাদের প্রাসাদ কাঁপবে না শুধু
ইতিহাসও থুথু দেবে
তোমাদের নামের ওপর।
রুখতে পারবে না তাদের পদধ্বনি।
রাজপথ আগুনের ভাষা শিখবে
আকাশ ছিঁড়ে উঠবে প্রতিশোধের শপথ!
আর তোমরা
ক্ষমতার সিংহাসনে বসে থাকা কাপুরুষেরা
নিজেদের ছায়াকেও ভয় পাবে।
তোমাদের প্রাসাদের প্রতিটি ইট
মানুষের অভিশাপে ফেটে যাবে
প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়বে
হাজারো লাঞ্ছিত আত্মার ক্রোধ।
সেদিন ইতিহাস বিচারক হবে না
হবে জল্লাদ।
সেদিন বিদ্রোহ উঠবে
শুধু মানুষের হাতে নয়
মাটির নিচে জমে থাকা প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে!
কারাগারের শিকল ভেঙে চিৎকার করবে
রাজপথ রক্তের বদলা চাইবে রক্তে
আকাশ কালো হয়ে নামবে অত্যাচারীর মাথার ওপর।
তারপর বিদ্রোহী বাতাস
রুদ্র ডানায় অগ্নি মেখে
ছাই উড়িয়ে উড়িয়ে উচ্চারণ করবে
“মানুষ!
তোর বুকের চেয়ে মহান কোনো সিংহাসন নেই
তোর রক্তের চেয়ে জ্বালাময়ী কোনো সূর্য নেই!”