আরাফাত রহমান রানা
গল্প হলো জীবন আমার; গল্পেই শোভা পায়
বুড়ো হলে বাপ মা বুঝি বৃদ্ধাশ্রমে যায়
সব ভুলে যায় বুকেরই ধন, কলিজা আমার
কত রাত নির্ঘুম গেছে, হিসাব যে নেই তার
ঘুমের মধ্যে উঠত কেঁদে, বাবা বাবা বলে
চুমু খেয়ে বুকে টেনে নিতাম তখন কোলে
কান্না থামায় মানিক আমার, বাবার আদর পেয়ে
দোলনা কত করেছি তারে, পায়ে বালিশ দিয়ে
মাঝে মধ্যে এমন করেই চোখে আসত ঘুম
পুরস্কারটা বিরাট বড়ো, এলাম বৃদ্ধাশ্রম।
একটা দুটো কথা বলতে পারতো যখন খোকা
শত কষ্ট ভুলে যেতাম সুখে মুখুমুখা
প্রথম যেদিন বাবা বলে দিলো খোকা ডাক
সেই সুখটা আজও আমায় করে দেয় নির্বাক
খেলতে গিয়ে পড়ে গেলেই কাঁদত যখন কান্না
বুকে জড়িয়ে নিতাম তাকে, শুরু হতো বায়না
এটা ওটা লাগবে তার, না পারি সামলাতে
অপূর্ব রাহানি তবু কান্না থামাতে
প্রশ্ন এখন জাগে মনে কী দিয়েছি কম
কী কারণে পুরস্কারে আছি বৃদ্ধাশ্রম!
সারাদিনে শত প্রশ্ন মুখে ছিল তার
উত্তরেতে করিনি কভু মুখটি যে তার ভার
কেন বাবা পাখি উড়ে? মানুষ উড়ে না?
কী কারণে আমার মুখে দাড়ি থাকে না ?
হেসে হেসে জবাব দিতাম, হবে বড়ো হলে
সবকিছুরই উত্তর পাবে; তুমি বাবা হলে
কবে হব বাবা আমি ? এমন প্রশ্ন তার!
কত সুখে ভরা ছিল অতীতটা আমার
স্মৃতিগুলো চোখের জলে ভিজে হৃদকম
সুখে থাকিস বাবা আমার, আমি বৃদ্ধাশ্রম।
অল্প-স্বল্প করেও যদি হতাম আমি রাগ
দাদা দাদির কাছে যেতো অভিযোগের ভাগ
নিয়ে শাসন করত আমায়; অভিযোগে তার
চুমু দিয়ে বলতাম তারে; হবে না ভুল আর
অসুখ-বিসুখ হলে খোকা; যেতাম পাগল হয়ে
সারা বাড়ি যেতো যেন নীরবতায় ছেয়ে
একটুখানের জন্য আমি হতাম না আড়াল
চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিতাম ছোট দুটি গাল
বাবার আদর যেন খোকা ফিরে পেতো দম
ভালো থাকুক মানিক সকল; বলে বৃদ্ধাশ্রম।
