মাননীয় স্পীকার,
আজ আমি শব্দের পক্ষে দাঁড়াই
কিন্তু শব্দগুলো আজকাল ভোট চায়
সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে গেলে
তাদের বুক কেঁপে ওঠে।
মাননীয় স্পীকার,
এই সংসদে কত ভাষণ, কত তর্জন-গর্জন
তবুও বাইরে রোদে পুড়ে থাকা মানুষগুলোর
মুখে কোনো প্রতিশ্রুতির ছায়া পড়ে না।
আপনার টেবিলের উপর যে হাতুড়ি
তা কি কেবল শৃঙ্খলার প্রতীক?
নাকি সেটাই চুপ করিয়ে দেয়
প্রশ্ন করতে শেখা কণ্ঠগুলোকে?
মাননীয় স্পীকার,
আমি দাঁড়িয়েছি
কিন্তু এই দাঁড়ানো আসলে একা নয়
আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে
লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে বসে থাকা একটি পরিবার
চাল-ডালের দামে হাঁপিয়ে ওঠা এক মা
আর ভবিষ্যৎ শব্দটা শুনলেই চুপ হয়ে যাওয়া এক তরুণ।
মাননীয় স্পীকার,
এই সংসদে আলো অনেক
কিন্তু দেশের ভেতর আলো কমে গেছে
এখানে মাইক্রোফোনে উচ্চারণ হয় উন্নয়ন
বাইরে মানুষের কণ্ঠে জমে থাকে দীর্ঘশ্বাস।
আপনার টেবিলের সামনে
যে সংখ্যাগুলো সাজানো থাকে
সেগুলো কি সত্যিই মানুষের হিসাব?
নাকি শুধু কাগজের ওপর বেঁচে থাকা
একটা কৃত্রিম স্বস্তি?
কেন বাজেটের পাতায় উন্নয়ন ফুলে ওঠে
আর গলির ভেতর ক্ষুধা শুকিয়ে যায়?
মাননীয় স্পীকার,
আজকাল সত্য খুব সাবধানে হাঁটে
কারণ সত্য জানে
এই দেশে উচ্চারণেরও শাস্তি আছে।
রাতগুলো লম্বা হয়ে যাচ্ছে
শহরের দেয়ালে দেয়ালে
অদৃশ্য ভয়ের পোস্টার
কেউ টাঙায় না
তবুও সবাই পড়ে।
মাননীয় স্পীকার,
আমি আজ কোনো আইন চাই না
কোনো প্রতিশ্রুতিও না
শুধু চাই, একদিন
এই সংসদের দরজাগুলো খুলে দিন পুরোপুরি
যাতে ভেতরে ঢুকে পড়ে
রাস্তার ধুলো
রিকশাচালকের ক্লান্তি
আর ক্ষুধার্ত শিশুর নীরব চাহনি।
তারপর যদি আবারও বলেন
“দেশ ভালো আছে”,
আমি মাথা নত করবো
কারণ তখন বুঝে যাবো
ভালো থাকার সংজ্ঞা বদলে গেছে।
কিন্তু যদি এক মুহূর্তের জন্যও
আপনার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে
যদি আপনার চোখে ধরা পড়ে
অবহেলিত মানুষের সত্য
তাহলে, মাননীয় স্পীকার
এই সংসদের প্রতিটি শব্দ
দেয়াল পেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসবে
আর ইতিহাস একদিন লিখবে
এই দেশের মানুষ
চুপ ছিল না
শুধু তাদের কথা
শোনার কেউ ছিল না।