প্রিয়/প্রিয়তমা,
তোমাকে শেষ দেখেছিলাম হাটবারের বিকেলে। তোমার হাতে ছিল শিউলি ফুল, আর চোখে এমন এক নীরবতা। যেন শরতের আকাশ হঠাৎ মানুষের রূপ নিয়েছে। তারপর থেকে অদ্ভুতভাবে সবকিছুতেই তোমাকে দেখি।
পুকুরের জলে, কাশবনের ফাঁকে, এমনকি সন্ধ্যার পাখিদের ফিরে যাওয়ার শব্দেও।
গতকাল তোমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ইচ্ছে করছিল খুব ডাকি। কিন্তু গ্রামের পথ তো মানুষের চেয়ে কথাই বেশি বহন করে। তাই চুপচাপ চলে এলাম।
জানো, রাতে এখন আর ঘুম আসে না। হারিকেনের আলোয় বসে তোমার কথা ভাবি। ভাবি, তুমিও কি কখনো আমার কথা ভাবো? তোমারও কি হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে ওঠে?
তোমার দেওয়া শুকনো বেলি ফুলটা এখনো বইয়ের ভেতর রেখে দিয়েছি। ফুলটা মরে গেছে, কিন্তু গন্ধটা আজও বেঁচে আছে। ঠিক তোমার মতো।
যদি কোনোদিন খুব মন খারাপ হয়, তাহলে নদীর ঘাটে যেও। আমি না থাকলেও সেখানে আমার অপেক্ষা পড়ে থাকবে।
ইতি
তোমার নাম না লেখা মানুষ।