এ শহর ঘুমায় না
নিয়ন আলোয় ভেজা প্রতিটা রাত
একটা করে ভাঙা হৃদয়ের সাক্ষী রেখে যায়।
ফুটপাতের ধুলোয় পড়ে থাকে
অসমাপ্ত প্রেমের চিঠি
আর উড়ে যায়
নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস
যেন কেউ নাম না জানা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে
নিজেকেই দাফন করছে বারবার।
রাত বাড়ে
আর আমি দেখি
একটা একলা ছাদ
চাঁদের সাথে কথা বলে
আরেকটা জানালা
অন্ধকারকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে।
তুমি কি শুনতে পাও?
এই নিরব শহরের গভীরে
একটা ভাঙা মানুষের চিৎকার
যে প্রতিটা রাতে
নিজের বুকের ভেতর কবর খুঁড়ে
তোমাকে আবারও সমাধি দেয়
ফুটপাতের ভিখিরিটা
আজও একই জায়গায় ঘুমায়
তার পাশে বসে থাকা কুকুরটা
নিয়মিত শ্বাস নেয়
শুধু আমি
নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর
বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।
তুমি চলে যাওয়ার পর
আমি আর মানুষ নেই
আমি এখন এক শহর
যেখানে প্রতিটা গলি
একটা করে ব্যথার শিরা
প্রতিটা মোড়
একটা অসমাপ্ত বিদায়ের জায়গা।
এই শহরের বাতাসে এখনো তোমার গন্ধ নেই,
আছে শুধু
দগ্ধ স্মৃতির ধোঁয়া
যা শ্বাস নিতে গেলে
ফুসফুস ছিঁড়ে দেয় ভেতর থেকে।
তুমি ছিলে
একটা ব্যক্তিগত রাষ্ট্র
যেখানে আমি নাগরিক ছিলাম
এখন আমি রাষ্ট্রহীন
আমার ভেতরে এখনো
একটা বিকেল আটকে আছে
যেখানে তুমি শেষবার বলেছিলে
“থাক, আর দরকার নেই।”
তারপর থেকে
সবকিছুই দরকারের বাইরে
এই বেঁচে থাকা
এই হাঁটা
এই অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন।