নক্ষত্র হয়ে জ্বলা দীর্ঘশ্বাস

নক্ষত্র হয়ে জ্বলা দীর্ঘশ্বাস
আরাফাত রহমান
হাজারো স্বপ্ন ছিল; প্রতিটি স্বপ্নেই ছিলো ক্ষয়ের ছায়া
পাওয়া যতই হলো, তবুও মনে হয় কিছুই তো হয়নি পাওয়া
এই হৃদয়, নিজেকেই জিজ্ঞাস করে কিসের এ অবিরাম জ্বালা
ভালোবাসা কী ছিলো মায়া, না মায়ার ভেতরেই ভালোবাসা
চোখে যে জল জমে থাকে, তারও তো কোনো নাম নেই
কষ্টগুলো নীরব থাকে, কারও কাছে কোনো দাবি নেই
যে মানুষটা ছিলো কাছে তার ছায়াও আজকাল অপরিচিত লাগে
কাছে থেকেও এত দূর এ কেমন অদৃশ্য দূরত্ব জাগে!
নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি খুঁজতে গিয়ে কারো ছায়া
এ কেমন পথ; যেখানে নিজের সঙ্গেই হয় বিচ্ছেদ মায়া
রাত নামলে স্মৃতিরা সারি বেঁধে নিঃশব্দে বসে
একেকটা দীর্ঘশ্বাস যেন জ্বলে ওঠে নক্ষত্র হয়ে আকাশে
চোখের জল; এও এক ভাষা, কেউ শেখেনি যার উচ্চারণ
ভেতরের ভাঙা সুরগুলো কেবল নীরবতাতেই পায় আশ্রয় তখন
দুনিয়া বলে সময় সব ক্ষত সারিয়ে তোলে ধীরে ধীরে,
সময় তো কেবল শেখায় কিছু ব্যথা বেঁচে থাকে চিরতরে।
কষ্টগুলোকে জিজ্ঞেস করলাম; কি চাই তোমার?
সে হেসে বলল তোমাকেই তো, তবে তোমার অজান্তে বারবার
রাতগুলো আজকাল খুব দীর্ঘ, ঘড়ির কাঁটাও ক্লান্ত হয়ে থামে
সময়েরও যেন ইচ্ছে নেই, আমার এই নিঃসঙ্গতা ভাঙুক কোনোক্রমে
এক ফোঁটা নীরবতা পড়ে থাকে চায়ের কাপের ঠাণ্ডা ধোঁয়ায়
সেখানে ভাসে অজস্র কথা যা বলা হয়নি কোনোদিন কারো ছোঁয়ায়
ভালোবাসা শেষ হয়নি, শুধু রূপ বদলেছে নিঃশব্দ কোনো অভিমানে
এখন সে থাকে একটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে, অকারণ সন্ধ্যার টানে।
