রক্তে লেখা প্রতিবাদ

রক্তে লেখা প্রতিবাদ
আরাফাত রহমান
রাত জেগে কাঁদে শহর, কাঁপে বিবেকের দেয়াল
মানুষের মুখোশ পরে বেড়ায় নরপিশাচের পাল
আইনের চোখ বেঁধে রাখে টাকার মোটা দড়ি
শিশুর রক্ত শুকায় তবু, ঘুমায় সভ্য নগরী।
কত মা আজ শূন্য বুকে আগুন চেপে রয়
কত বোনের ভাঙা চিৎকার বাতাস ছুঁয়ে ক্ষয়
তোমরা শুধু তারিখ দাও, বিচার দাও না কভু
এই নীরবতা একদিন ঠিক জ্বালিয়ে দেবে প্রভু।
হুংকার দাও! রুখে দাঁড়াও! আকাশ ফাটুক আজ
ধর্ষকের এই কালো রাজ্যে জ্বলে উঠুক লাজ
যে হাত ছুঁয়েছে নিষ্পাপ প্রাণ সে হাত পুড়ে ছাই
এই বাংলার প্রতিটা পথে দ্রোহের মিছিল চাই।
রক্তে লেখা প্রতিজ্ঞাতে রাজপথ আজ জেগে রয়
ধর্ষকের এই বাংলাতে কোনো ক্ষমা আর নয়
যে চোখ দেখে চুপটি থাকে, সেও সমান দোষী
নীরব মানুষ মৃত প্রায়, বিবেক হয়েছে রোষী।
বইয়ের পাতায় স্বাধীনতা, রাস্তায় শুধু ভয়
কোথায় তবে সেই রাষ্ট্র, ন্যায়বিচারের জয়
একটা মেয়ে যুদ্ধ করে প্রতিদিনের পথে
সভ্যতারই লাশ পড়ে রয় আদালতের রথে।
রক্তে লেখা প্রতিটা ক্ষোভ আজ রাজপথেই ঝরে
নীরবতার কফিন ভেঙে আগুন নামে ঘরে
ভাঙা বুকের প্রতিটা ক্ষত বজ্র হয়ে কয়
এই বাংলার মাটিতেই হবে নরপিশাচের ক্ষয়।
চোখের জলে আগুন জ্বালো ভাঙো নীরব রাত
মানুষ যদি বেঁচে থাকে জাগবেই প্রতিবাদ
শপথ নাও আজ রাজপথে ভয়কে করব ক্ষয়
নারীর কান্না থামবে যেদিন সেদিন সূর্য জয়।
